তারুণ্যের ছোঁয়ায় তৈরি নকশা
নকশার এ আয়োজনে নবীন চার ফ্যাশন ডিজাইনারের নকশা করা চারটি পোশাক তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের ডিজাইনে আছে তারুণ্যের ছোঁয়া। এবারের ঈদে চাইলে এই নকশাগুলো দেখে পোশাক বানিয়ে নিতে পারেন। নকশার পাঠকদের জন্য ডিজাইনার রিফাত রেজা, ফারাহ দিবা, আফসানা ফেরদৌসী ও এ বি ওয়ালি আহমেদ বানিয়েছেন এই পোশাকগুলো।
পরিবেশবান্ধব স্কার্ট
ডিজাইনার: আফসানা ফেরদৌসী
লম্বা স্কার্টের বেশ চল দেখা যাবে ঈদে। তবে স্কার্ট বানাতে কাপড় লাগবে বেশ কয়েক গজ। কারণ বেশি পরিমাণে ঘের দেওয়া, স্প্লিট ও লেয়ার দেওয়ার মাধ্যমেই তৈরি করা হবে স্কার্টগুলো। কোমরের ওপর থেকে পরা হবে (হাই ওয়েস্ট)। টপের কাটেও বেশ ভিন্নতা দেখা যাবে। সাদা রঙের স্কার্টটিতে সিল্কের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতরে লাইনিং হিসেবে দেওয়া হয়েছে তাঁতের কাপড়। টপের গলার কাটটা বোট নেক। হাতা কনুই পর্যন্ত লম্বা। ঢিলেঢালা ফিটিংয়ে কেপ হাতার কাট দেওয়া হয়েছে। টপটাও তৈরি করা হয়েছে ঢিলেঢালা কাটে। বেঁচে যাওয়া কাপড়ের টুকরো দিয়ে টপের ফুলগুলো করা হয়েছে। আফসানা ফেরদৌসী বলেন, ‘আমি সব সময় পুনর্ব্যবহার (রিসাইকেল) করি। স্কার্টে স্প্লিট ব্যবহার করেছি। এবারের ঈদের সময় গরম থাকবে। তাই সাদা রং বেছে নিয়েছি। এ পোশাক রাতের দাওয়াতের জন্য আদর্শ। সঙ্গে মানাবে মুক্তার গয়না। শেল দিয়ে বোতামগুলো তৈরি করেছি। এটা পরিবেশবান্ধব ও ফ্যাশনেবল।’
এই স্কার্টে পকেট আছে। এবারে পোশাকে পকেট দেখা যাবে। পেনসিল কাট প্যান্ট চলবে ফ্যাশনে।
৪২ ইঞ্চি লম্বা স্কার্টটি বানাতে চার গজ কাপড় লেগেছে। টপে লেগেছে প্রায় দুই গজের মতো কাপড়।
ঘের দেওয়া কটি
ডিজাইনার: ফারাহ দিবা
ভেতরের কাপড়টির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ফুলেল প্রিন্ট। ওপরের কটি লাল রঙের। দুটিই লিনেন কাপড়ের। গরমের কথা মাথায় রেখে এ কাপড় বেছে নেওয়া। সারা দিনের ঘোরাঘুরিতে আরাম পাওয়া যাবে। কটিতে অ্যালাইন কাট দেওয়া হয়েছে। নিচের দিকে একটু ঘের আছে। ভেতরে হাতাকাটা স্ট্রেট কাটের কামিজ। পরতে পারেন পালাজ্জো ও টাইটসের সঙ্গে। লাল কটির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া নীল রঙের লেসের ওপর মেশিন এমব্রয়ডারি করা হয়েছে। কটি বানাতে লাগবে তিন গজ, ইনারের জন্য দুই গজ।
ফারাহ দিবা বললেন, ‘গরম থাকলেও এবার উজ্জ্বল রংগুলো বেশ দেখা যাবে। পোশাকের কাটে প্যাটার্নভিত্তিক কাজ বেশি হচ্ছে। একটু ফ্রক স্টাইল, আনারকলি ছাঁট, গাউনের মতো কাট দেখা যাবে। হাতাকাটা পোশাক চলবে বেশ। প্রাধান্য পাবে নানা মাপের কটি।’
হালকা রঙে স্নিগ্ধতা
ডিজাইনার: রিফাত রেজা
পিচ রঙের বেশ প্রাধান্য দেখা যাবে ঈদ ফ্যাশনে। এ ছাড়া কোরাল ও কমলা রংও বেশ দাপিয়ে বেড়াবে। সুতি কাপড়ের পোশাক বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন রিফাত রেজা। নিচের অংশে কাগজ কাটার মতো করে নকশা করেছেন। পোশাকে নীল রং দিয়ে মেশিন এমব্রয়ডারি করা হয়েছে। হাতাটা বাটারফ্লাই স্টাইলে কাটা। দেখতে অনেকটা কাফতানের মতো। স্বস্তি লাগবে পরতে। এই টিউনিকটির সঙ্গে চাইলে পালাজ্জো পরা যাবে। পোশাকের কাট নিয়ে রিফাত রেজা বলেন, ‘পোশাকের নিচের ঘের বাড়ছে। লম্বা স্টাইলের কুর্তা জনপ্রিয় হবে। চাপা কাটের প্যান্ট চলবে। পালাজ্জোতে লেয়ারিং ও কাজ থাকবে’। রঙের ভেতর পিচ, নীলের বিভিন্ন শেড, হলুদ, কফি, খাকি রংগুলো ঘুরে-ফিরে আসবে। পোশাকের ওপর বিভিন্ন লম্বার বাটারফ্লাই পঞ্চ চলবে। কামিজে এবারও বেশ লম্বা কাট থাকবে। রাউন্ড কাট দেখা যাবে নিচে। টিউনিকটি বানাতে কাপড় লাগবে প্রায় তিন গজ।
কুর্তায় ভিন্নতা
ডিজাইনার: এ বি ওয়ালি আহমেদ
বেনারসি কাতান দিয়ে কুর্তাটি বানানো হয়েছে। এটি তৈরি করতে কাপড় লেগেছে আড়াই গজ। চাপা কাটের প্যান্টটি দেড় গজ কাপড় দিয়ে বানানো হয়েছে। কুর্তার ভেতরে সিল্ক কাপড়ের লাইনিং দেওয়া হয়েছে। প্যান্টের ভেতরে দেওয়া হয়েছে ভয়েলের লাইনিং। কুর্তাটির পেছনের অংশটি লম্বা রাখা হয়েছে। সামনের অংশটি তুলনামূলক ছোট। কুর্তায় এ ধরনের কাট এবার বেশ জনপ্রিয় হবে বলে জানান ওয়ালি আহমেদ। তিনি বলেন, ‘কুর্তায় হল্টারনেক স্টাইলে কলার বসানো হয়েছে। ওপরের অংশে ভিন্ন রঙের বেনারসির কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। ঈদের দিনে উজ্জ্বল রঙের ফিউশনধর্মী কুর্তা বানাতে পারেন।’ সালোয়ারে বেশি কুঁচি ব্যবহার করা হবে। ফুলেল প্রিন্ট এবার বেশি চলবে।
Comments
Post a Comment